মঙ্গলবার 15 জুন 2021 - 11:51:26 সকালে

সংযুক্ত আরব আমিরাত হামদান বিন রশিদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে


আবু ধাবি,24 মার্চ, 2021(ডাব্লুএএম) --সংযুক্ত আরব আমিরাত হিজ হাইনেস শেখ হামদান বিন রশিদ আল মাকতুমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে, যিনি আজ 76 বছর বয়সে পরলোক গমন করেছেন। শেখ হামদান সংযুক্ত আরব আমিরাতের যাত্রাপথের সমস্ত স্তর প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং জাতীয় উন্নয়ন অভিযানে প্রচুর অবদান রেখেছেন। তিনি দেশের অন্যতম নেতা ছিলেন এবং এর নবজাগরণ এবং এর ভবিষ্যত পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছিলেন।তিনি ছিলেন দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া জীবনের এক উল্লেখযোগ্য প্রতীক। শেখ হামদান 1945 সালে জন্ম গ্রহন করেছিলেন,শেখ রশিদ বিন সাইদ আল মাকতুমের দ্বিতীয় পুত্র।তিনি 1971 সালের 9 ডিসেম্বর প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রিসভা গঠনের সময় অর্থ মন্ত্রীর পদে নিযুক্ত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।তিনি মানবিক কাজের প্রতি আগ্রহ এবং সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর আবেগের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি অসংখ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিশিষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেছেন যা সমগ্র দেশের অর্থনীতি এবং শ্রমবাজারে সহায়তা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,বিশেষত দুবাই, যা উল্লেখযোগ্যভাবে, দুবাই পৌরসভা, আল মাকতুম ফাউন্ডেশন, দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, আমিরাত ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (ইএনওসি), দুবাই ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (দুগাস), এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম, ইএনওসি প্রসেসিং সংস্থা এলএলসি, এবং অয়েলফিল্ডস সরবরাহ কেন্দ্র। 2006 সালে, শেখ হামদান "যুক্তরাজ্যের রয়্যাল কলেজ," থেকে তিনটি সম্মানসূচক শংসাপত্র,পাশাপাশি "লন্ডনের ব্রিটিশ রয়্যাল কলেজ অফ ইন্টারনাল মেডিসিন," থেকে সম্মানিত ফেলোশিপ শংসাপত্র,"এডিনবরার ব্রিটিশ রয়্যাল কলেজ ফ্রম ইন্টারনাল মেডিসিন থেকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ সার্টিফিকেট" এবং "গ্লাসগোয়ের ব্রিটিশ রয়্যাল কলেজ অফ ইন্টারনাল মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি" এর সম্মানসূচক ফেলোশিপ শংসাপত্র পেয়েছেন। শেখ হামদান দান ও মানবিক কাজ করার আগ্রহের জন্য খ্যাত ছিলেন, বিশেষত দরিদ্র ও প্রান্তিক অঞ্চলে,2009 সালে আফ্রিকান ইউনিয়নের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (এইউ), তাকে সম্মান জানাতে একটি অধিবেশন উত্সর্গ করতে নেতৃত্ব দিয়েছিল,সেখানে প্রায় 50 টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি উপস্থিত ছিলেন যারা ওনার গুণাবলীর প্রশংসা করেছিলেন, কারণ তিনি কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা দিয়েছিলেন। ওনার চ্যারিটেবাল কার্যক্রম কেবল আফ্রিকান মহাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না তবে ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছিল।শেখ হামদান সর্বদা আর্থিকভাবে বা পবিত্র বই এবং প্রকাশনা প্রদান এবং ওয়ার্কশপ এবং শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজনের মাধ্যমে নতুন মুসলিম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সমর্থন করার জন্য আগ্রহী ছিলেন।তিনি ইসলামী শরিয়া পড়ানোর জন্য অসংখ্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শেখ হামদান চিকিত্সা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষামূলক পরিষেবা প্রকল্প সহ অনেক আরব দেশে অসংখ্য প্রকল্প স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন,পাশাপাশি মসজিদ, স্কুল, হাসপাতাল, বৃত্তিমূলক কেন্দ্র এবং পবিত্র কুরআন প্রার্থনা কেন্দ্র নির্মাণ।তিনি অন্যান্য চ্যারিটেবাল কর্মকাণ্ডের মধ্যে অভাবী পরিবার, সমর্থিত অনাথদের জন্য উদ্ধার ও মানবিক অভিযান প্রেরণ করেন এবং রমজান ইফতার, ঈদের পোশাক এবং স্কুল সামগ্রীর বিধান প্রচারের ব্যবস্থা করেন। স্থানীয় ফ্রন্টে, শেখ হামদানের নেতৃত্বে আল মাকতুম ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রদত্ত সহায়তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানবিক প্রচেষ্টায় ব্যাপকভাবে যুক্ত হয়েছিল। "বিশিষ্ট একাডেমিক পারফরম্যান্সের জন্য হামদান বিন রশিদ আল মাকতুম ফাউন্ডেশন" এর মাধ্যমে সর্বস্তরে শিক্ষা সহায়তা করার জন্য শেখ হামদান অনন্য,যা 1998 সালে লঞ্চ হয়েছিল।বিশেষত "ইউনেস্কো-হামদান বিন রশিদ আল মাকতুম পুরস্কার" প্রবর্তনের পরে এই পুরষ্কার শিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং নতুনত্বের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে পরিণত হয়েছে যা বিশিষ্ট একাডেমিক পারফরম্যান্সের জন্য হামদান বিন রশিদ আল মাকতুম ফাউন্ডেশন এবং ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগ। একই কাঠামোর আওতায় শেখ হামদান 2010 সালে তানজানিয়ায় আল মাকতুম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি কলেজ এবং স্কটল্যান্ডে আল মাকতুম ইনস্টিটিউট ফর আরবিক ও ইসলামিক স্টাডিজের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শেখ হামদান আন্তর্জাতিক আফ্রিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ বরাদ্দ করেছেন,আফ্রিকার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তার প্রধান ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবে এবং সুদান সহ শেখ হামদান বিন রশিদ আল মাকতুম স্কুলগুলির আফ্রিকান শাখা থেকে স্নাতকদের আকর্ষণ করে।তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের তহবিলের একজন প্রধান দাতাও ছিলেন, যা ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে ও বাইরে ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিত্সা ও মানবিক সেবা প্রদান করে। তিনি স্থানীয়ভাবে এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য বিভাগকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা করেছিলেন, মেডিকেল সায়েন্সের জন্য শেখ হামদান বিন রশিদ আল মাকতুম পুরস্কারের মাধ্যমে,যার লক্ষ্য চিকিত্সা দলগুলিকে সর্বোত্তম চিকিত্সা পরিষেবা সরবরাহ করতে উত্সাহিত করা। অনুবাদ: এম. বর। http://wam.ae/en/details/1395302921303

WAM/Bengali